সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণসহ নানা অনিয়মের দায়ে ‘ডাইনিং ডিলাইট’সহ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে অভিযানের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এক রেস্টুরেন্ট মালিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ঘিরে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১১ মার্চ সকালে কুলাউড়া পৌর শহরে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবিদ হোসেন। অভিযানে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাকিব হোসাইন,উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নুপুর চন্দ্র ধর এবং র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা।
অভিযানে ‘ডাইনিং ডিলাইট’ রেস্টুরেন্টে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। এর মধ্যে কাচ্চি রান্নায় রঙ ব্যবহার,সিংকে গোশত ধোয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ বান সংরক্ষণ,পোড়া তেল ব্যবহার, বাসি খাবার ফ্রিজে রাখা,কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ,রেস্টুরেন্ট লাইসেন্স না থাকা,অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত এবং কর্মীদের নির্ধারিত পোশাক না থাকার মতো অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের কাছে ইমেইলে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে অভিযানে ধরা পড়া অনিয়ম ও জরিমানার বিস্তারিত তথ্যের পাশাপাশি অভিযানের কয়েকটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়। পরে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর ‘ডাইনিং ডিলাইট’-এর মালিক ফজলে আবিদ খান,যিনি বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন, ফেসবুক লাইভে এসে কয়েকটি গণমাধ্যমকে ‘দালাল’ ও ‘ভুয়া’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বাসি খাবার ও রঙ ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব প্রমাণ করতে পারলে তিনি জরিমানার তিন গুণ অর্থ দিতে প্রস্তুত।
তবে নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. শাকিব হোসাইন বলেন,অভিযানের সময় উল্লেখিত অনিয়মগুলো প্রমাণিত হওয়ায় এবং রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন,সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে কোনো ব্যক্তিগত মতামত যুক্ত করা হয়নি।
কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুশীল সেনগুপ্ত বলেন,পেশাদার সাংবাদিকরা সবসময় তথ্য যাচাই করেই সংবাদ প্রকাশ করেন। সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদকে ‘দালালি’ বলা অত্যন্ত দুঃখজনক।
প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরী বলেন,অভিযানে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করেছেন। এখানে সাংবাদিকদের কোনো দায় নেই। নিজের দায় এড়াতে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা অনভিপ্রেত।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,মোবাইল কোর্ট স্বাধীনভাবে কাজ করে। কেউ অসন্তুষ্ট হলে আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।
এদিকে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দীপংকর ব্রহ্মচারী বলেন,খাবারে রঙ ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অপরিষ্কার পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ করলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়,যা ডায়রিয়া,টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।

