সাতক্ষীরার সকাল ছিল আভাসহীন—হালকা কুয়াশা আর পাখির কিচিরমিচির মধ্যে। কিন্তু সীমান্তের ৩৩ ব্যাটালিয়ন শহরে নতুন এক অভিযান শুরু হতে চলেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান তার টিমকে প্রস্তুত করেছেন। খবর পেয়েছিলেন, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে অপদ্রব্য পুশকৃত বাগদা চিংড়ি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে, সড়কের পাশে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হলো। বিজিবির সদস্যরা দৃষ্টি স্থির করে অপেক্ষা করতে থাকলেন। কিছু সময় পরে দেখা গেল—দুটি ট্রাক আর একটি নসিমন গাড়ি আসছে। চোখে পড়ল, বিপুল পরিমাণ চিংড়ি।
ট্রাক থামানো হলো, তল্লাশি শুরু। বিজিবি ও সাতক্ষীরার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম সরেজমিনে পরীক্ষা করলেন। চোখে পড়ল—১৬৪ কেজি চিংড়িতে ক্ষতিকর জেলি অপদ্রব্য মেশানো হয়েছে। মানুষের জন্য বিপজ্জনক এই চিংড়িগুলো বাজারে পৌঁছালে অগণিত মানুষের স্বাস্থ্যে ঝুঁকি থাকত।
অভিযান শেষ হওয়ার আগে দায়ীদের জরিমানা করা হলো ৪৩ হাজার টাকা। বিজিবি জানালো, জব্দকৃত ১৬৪ কেজি চিংড়ির বাজারমূল্য ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এবং সেই ক্ষতিকর চিংড়িগুলো পর্ষদের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলো। আগুনে উল্কাপিন্ডের মতো জ্বলছে চিংড়ির খোলস, যেন এক সতর্কবার্তা—কেউ যদি মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে খেলতে চায়, তার ফল ভুগতেই হবে।
তবে অভিযান শুধু এই ক্ষতিকর চিংড়ি ধরতেই সীমাবদ্ধ থাকল না। জেলি বা অপদ্রব্যবিহীন ২ হাজার ৫০০ কেজি চিংড়ি, দুটি ট্রাক, একটি নসিমন গাড়ি এবং চালকরা ছেড়ে দেওয়া হলো। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরার সেই সকালে বিজিবি শুধু চিংড়ি আটক করেনি, তিনি মানবজীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন। প্রতিটি পুড়ানো চিংড়ির কণায় ছিল এক অদৃশ্য বার্তা—জনস্বাস্থ্যই সর্বোচ্চ। আর সীমান্তের এই অভিযান যেন প্রমাণ করে, ন্যায় এবং সতর্কতার যুদ্ধে কেউ অজান্তে অব্যাহত থাকতে পারবে না।

