ক্রাইম রিপোর্টার:
রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির (জাপা) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এরশাদপন্থী রাজনীতির ঐতিহ্য ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রতি এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থাই ইউনিয়নটিকে জাতীয় পার্টির নির্ভরযোগ্য দুর্গে পরিণত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিতর্কিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সেই ঘাঁটিতেই দেখা দিয়েছে চরম আদর্শিক সংকট ও ভাঙ্গন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি শাখার বর্তমান আহ্বায়ক মোঃ রায়হানুর রহমান রায়হান ও সদস্য সচিব মোঃ হাসানুর রহমান সুমনের নেতৃত্বে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমান আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা না রেখে বরং দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে কাজ করা এবং ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
একজন প্রবীণ জাতীয় পার্টি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা সংকটের সময় লাঙ্গলের পাশে দাঁড়ায়নি, তারাই আজ ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃত্বে—এটি আমাদের জন্য চরম হতাশার।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান কমিটিতে এমন একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা অতীতে প্রকাশ্যে বা নীরবে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেউ কেউ স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের পদধারী বা সক্রিয় কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রশ্ন—জাতীয় পার্টির আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের কীভাবে দলীয় নেতৃত্বে জায়গা দেওয়া হলো? ত্যাগীদের বয়কটে সংগঠন কার্যত অকার্যকর বিতর্কিত নেতৃত্বের কারণে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের প্রবীণ, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা দলীয় সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলকে পাশ কাটিয়ে এমন নেতৃত্ব আরোপ করা হলে দল দীর্ঘমেয়াদে সাংগঠনিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এই বিষয়ে জাতীয় পার্টির জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বারবার অবহিত করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্মূল্যায়ন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা না করা হলে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির ঐতিহ্যগত অবস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি শাখার আহ্বায়ক মোঃ রায়হানুর রহমান ও সদস্য সচিব মোঃ হাসানুর রহমান সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

