মোঃ শরিফ বিল্লাহ
রংপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের ভরাডুবির মুখে পড়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। সারাদেশে ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি লাঙল প্রতীকের প্রার্থীরা। দলটির চার দশকের ইতিহাসে এমন বিপর্যয় আগে দেখা যায়নি।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রংপুরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে লাঙল প্রতীক সামনে রেখে প্রতীকী ‘জানাজা’ পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। কয়েকটি ফেসবুক পেজ ছবিটি শেয়ার করে দাবি করেছে, “রংপুরের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙলের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।”
তবে ছবিটি কোথায় তোলা হয়েছে বা কারা এ আয়োজন করেছেন—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান করেও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছিলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।’ অনেকেই ভাইরাল ছবির সঙ্গে ওই বক্তব্যের সম্পর্ক খুঁজছেন।
ছবিটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে রাজনৈতিক প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে প্রতিপক্ষকে ব্যঙ্গ করার কৌশল বলে মনে করছেন। অনেকেই বিষয়টিকে অসম্মানজনক বলেও মন্তব্য করেছেন।
বেসরকারি ফলাফলে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে তৃতীয় হয়েছেন। একইভাবে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনেও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
একসময় রংপুর ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর ঘাঁটি এবং জাপার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের নির্বাচনে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি দলটি। রংপুরের ৬টি আসনের মধ্যে অধিকাংশেই এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; অন্যদিকে একটি আসনে এগিয়ে রয়েছে এনসিপি এবং একটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপার এই ভরাডুবির পেছনে রয়েছে সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্ব সংকট এবং ভোটারদের নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের দিকে ঝোঁক।

