এম.শাহীন আল আমীন, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি :
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বয়সের ভাড়ে এবং সংস্কারের অভাবে নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। মেরুরচর ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা কেন্দ্রটি কংকাল সার হয়ে দাড়িয়ে আছে। চিকিৎসা সেবার দেওয়ার মত কোন পরিবেশ নেই। ফলে বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা সেবা।
জানা যায়, গ্রামীন জনপথের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার কল্যানে ১৯৭৭ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চরাঞ্চল ও নদী ভাঙ্গন কবলিত মেরুরচর ইউনিয়নের ২৮টি গ্রামের মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসছিলো।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একটি নির্ভযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত মেরুরচর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই ২টি ভবন ছিলো। একটি আবাসিক আরেকটি চিকিৎসা কাজে ব্যবহারের জন্য। দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে ২টি ভবনই কংকালসারে পরিনত হয়েছে। ব্যবহার উপযোগী নয়।
আবাসিক ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার ও স্টাফরা উপস্বাস্থ্র কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে বসবাস করতে পারছেনা। ফলে মেরুরচর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পোস্টিং হলেও তারা ভিন্ন স্থানে বসবাস করে থাকেন।
উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার কারণে ডাক্তার ও অন্যান্য স্টাফরাও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেনা।
জানালা দরজা ভাঙ্গা ও ভবন জরাজীর্ণ। ২/১টি জানালা দরজা ছাড়া সব গুলো জানালা দরজা ভাঙ্গা ও খোলা।
জানালা দরজা না থাকায় জরাজীর্ণ ভবনটি মলমূত্র ও ময়লার বাগারে পরিনত হয়েছে। বসবাস করছে শিয়াল কুকুর।
বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট ছাড়া মেরুরচর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সব কিছুই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় ২৮টি গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে মেরুরচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু জানান, মেরুরচর ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার ও অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ব্যবহার উপযোগি করে চিকিৎসা সেবা চালু করলে জনসাধারণ উপকৃত হবে।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু। এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রেজাউল করিম জানান, মেরুরচর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনটি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগি করার জন্য অফিসিয়ালভাবে জানানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই মেরামত কাজ শুরু হবে।

