মো: এ কে নোমান, নওগাঁ প্রতিনিধি-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে ব্যতিক্রমী ফল এসেছে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনে। জেলার বাকি পাঁচটি আসনে যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন, সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে এই একটি আসনে চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত)। বেসরকারি ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী মো. এনামুল হক শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত করেছেন।
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট ও পত্নীতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় মোট ১২৪টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে ধামইরহাট উপজেলায় ৫৩টি এবং পত্নীতলা উপজেলায় ৭১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের মধ্যে চলে টানটান উত্তেজনার স্নায়ুযুদ্ধ।
সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মূল লড়াই ছিল জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের মধ্যে। ভোট গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে জামায়াত প্রার্থী মো. এনামুল হক এগিয়ে যান।
বেসরকারি প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, জামায়াতের প্রার্থী মো. এনামুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. সামসুজ্জোহা খান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৪ ভোট। ফলে ৬ হাজার ৪৫৪ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন এনামুল হক। এছাড়া এবি পার্টির প্রার্থী মো. মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫০ ভোট।
ভোট গণনার শেষ পর্যায় পর্যন্ত দুই শীর্ষ প্রার্থীর ব্যবধান খুবই কম থাকায় সমর্থকদের মধ্যে ছিল চরম উৎকণ্ঠা। শেষ ফল ঘোষণার পর জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে নেমে আসে হতাশা।
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো আসনে ভোট গ্রহণ ও গণনা কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশ শেষ হয়।
উল্লেখ্য, নওগাঁ জেলায় মোট ১১টি উপজেলা নিয়ে ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে এবং পুরো জেলায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৭৮২টি। এবারের নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয় পেলেও নওগাঁ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর এই জয় রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

