আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ‘গোয়েন্দা জরিপ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন একটি তথাকথিত ‘গোয়েন্দা জরিপ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, লড়াইটি মূলত বিএনপি বনাম জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এই জরিপে জামায়াতপন্থী জোটের জন্য এক নিরঙ্কুশ বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।জরিপের চমকপ্রদ আসন বিন্যাসভাইরাল হওয়া এই অপিনিয়ন পোল বা সম্ভাব্য ফলাফল অনুযায়ী, সরকার গঠনের দৌড়ে ১১-দলীয় জোট অনেক এগিয়ে থাকতে পারে:দল / জোটসম্ভাব্য আসন সংখ্যাজামায়াতে ইসলামী জোট (১১ দল)১৭০ – ১৯০টিবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)৯৪টিজাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি)৮টিখেলাফতে মজলিশ৩টিইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ২টিস্বতন্ত্র ও অন্যান্য৩টিকেন এই ‘সারপ্রাইজ’ উত্থান?
বিশ্লেষকরা এই অগ্রগতির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:জেন-জি ভোটারদের সমর্থন: প্রায় ৩৮% তরুণ ভোটার জামায়াতের বর্তমান ‘সুশৃঙ্খল’ ও ‘পরিচ্ছন্ন’ ভাবমূর্তির ওপর আস্থা রাখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।এনসিপি-জামায়াত সমীকরণ: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম শক্তি জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) জামায়াত জোটের সঙ্গে থাকায় তরুণদের ভোট একীভূত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের শূন্যতা: আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের বড় একটি ভোটব্যাংক বিএনপির চেয়ে জামায়াতকে ‘আদর্শিক বিকল্প’ হিসেবে বেছে নিতে পারে বলে অনেক জরিপে দেখা গেছে।বিএনপি-র প্রতিক্রিয়া: ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’বিএনপি এই জরিপকে স্রেফ গুজব এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাবি করেছেন, বিএনপি ২৯২টি আসনেই অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের পূর্ণ রায় তাদের পক্ষেই আসবে।বাস্তব পরিস্থিতি বনাম জল্পনাভোটগ্রহণ এখনও চলছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ ভোটের খবর পাওয়া গেলেও বাউফলসহ কিছু জায়গায় উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, বিগত দিনগুলোর বিভিন্ন স্বাধীন জরিপে (যেমন ইএএসডি বা প্রজেকশন বিডি) বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হলেও জামায়াত তাদের সমর্থনকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়েছে—যা এবারের নির্বাচনে একটি ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্পে’র ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এটি একটি অনানুষ্ঠানিক জরিপের তথ্য মাত্র। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষকেই বিজয়ী বলা সম্ভব নয়। বিকেলের পর ভোট গণনা শুরু হলে এই জল্পনার সত্যতা যাচাই করা যাবে।

