সাইফুল ইসলাম,
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী মিছিলে বিএনপি কর্মীদের সশস্ত্র হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আমির ও সেক্রেটারিসহ নারী কর্মীসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারিয়া বাজারে দাড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রচারণা চালালে ধানের শীষ সমর্থিত বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। পরে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরঅডেল খানকা বাজার থেকে জামায়াতের মিছিলে প্রায় দেড় শতাধিক বিএনপি কর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ পেছন দিক থেকে হামলা চালায়।
আহতদের মধ্যে দাঁড়িপেলার সমর্থিত জামাল মেধা (২২), মিয়া জান, আবুল হাশেম (৪৪), জুয়েল (৩৪), নয়ন (১৭), সজীব মাঝি (১৭), শাহজালাল (২০), আলামিন (২৫), সাইফুল (৩৫), সুজন (৩২), রোজিনা (৩২), তানজিলা (২৬), আশরাফুল (৪০), নূর মাদবার (৩৮), আমিনুল (৩২), ইব্রাহিম (৩০), সালাম (৩০), সোহেল (১৮), আব্দুস সুবহান (৪০), আনিসুর রহমান (৫৫), শহিদুল (২৮) ও সোহরাব (২৭) রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২২ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আ. জানান, আহতদের মধ্যে জামাল মৃধার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বাউফল শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে থানায় মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে সহিংসতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি অবিলম্বে ওসিকে প্রত্যাহার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেছেন এবং বাউফলবাসীকে ভোটের মাধ্যমে জবাব দেয়ার আহ্বান জানান।

