চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি ওয়ার্ড ও বোয়ালখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম–৮ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু নাছের নিজের প্রতীক ধরে প্রচারণায় নামায় আসনটি কে আসল প্রার্থী, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় নেতা–কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে চট্টগ্রাম–৮ আসনে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির জুবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়ন পান। জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু নাছের, যিনি বোয়ালখালী উপজেলা শাখার নায়েবে আমির, মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় আইন অনুযায়ী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়ে প্রচারণায় নামেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আইনগতভাবে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে চট্টগ্রাম–৮ আসনে এনসিপির শাপলা কলি এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দুইই থাকছে। যদিও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখতে চিঠি দিয়েছেন, কিন্তু কমিশন তা গ্রহণ করেনি।
প্রথমে জামায়াতের প্রার্থী স্থানীয় ভোটার ও নেতা–কর্মীদের সমর্থন নিয়ে সরে দাঁড়ান। এরপর কিছুদিন মাঠে দেখা না গেলেও গত বুধবার থেকে তিনি আবার প্রচারণা শুরু করেছেন, নগরের চান্দগাঁওতে নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন এবং বিভিন্ন সড়কে ব্যানার–বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। মো. আবু নাছের জানিয়েছেন, স্থানীয় ভোটার ও নেতা–কর্মীদের অনুরোধে আবার প্রচারণায় নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম–৮ সহ চারটি আসন শরিক দলগুলোর জন্য রাখা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম–৮ আসনকে এনসিপির দায়িত্ব হিসেবে গৃহীত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে আবু নাছেরের সক্রিয়তা কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, “জোটের পক্ষে স্থানীয় সহযোগিতা পাওয়ার কথা, সেটা পাচ্ছি না। উল্টো প্রতিদ্বন্দ্বী নিজে প্রচারণায় নামায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “আবু নাছের দীর্ঘদিন এলাকায় সক্রিয় থাকায় কিছু সমর্থন রয়েছে। তবে সমঝোতা অনুযায়ী আসনটি এনসিপিকে দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এনসিপির প্রার্থী। বিষয়টি আবু নাছেরকেও জানানো হয়েছে।”

