ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে অতর্কিত ও ব্যাপক সিরিজ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানি শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই ‘বৃহত্তর আকারের’ হামলা চালানো হয় বলে আইডিএফ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।
আইডিএফ-এর দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের মোট ১৭০টি সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের কেন্দ্রবিন্দুতে হওয়া এই সিরিজ হামলায় কী পরিমাণ প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা তেহরানজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনো চরম উত্তপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতৃত্বের মধ্যে কিছুটা ভিন্ন সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে আসে, তবে তিনি শিগগিরই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি এখনই যুদ্ধ বন্ধের কোনো সময়সূচি (Timeline) নির্ধারণ করতে যাচ্ছেন না। অর্থাৎ ইসরায়েল তাদের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অনড়।
যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিলেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তেহরানে আজকের এই বড় ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

