ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সাম্প্রতিক হামলাকে ‘নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে জরুরি’ বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের অভিযোগ, ইরান একটি নতুন ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি জানান, এই হামলাটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন মেনেই চালানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ চলাকালে সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনাকারী সামরিক কমান্ডাররা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
নাদাভ শোশানি বলেন, ‘আলী খামেনি কেবল ধর্মীয় নেতা নন, বরং তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন এবং সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন। চলমান সংঘাতে তিনি সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ তদারকি করতেন।’ ইসরায়েলের মতে, সর্বাধিনায়ককে নিষ্ক্রিয় করার ফলে ইরানের সামরিক সমন্বয় ও হামলার সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে, যা ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করেছে।
এদিকে ইরানি গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ওই হামলায় খামেনির স্ত্রী, জামাতা এবং দুই নাতি-নাতনিও নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাও রয়েছে।
পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্য এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যেমন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, তেমনি ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একযোগে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে।

