যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের শান্তি আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা চলার পর ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান প্রতিনিধিদল মার্কিন শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করেছে।
ভ্যান্স সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা সৎভাবে আলোচনা করেছি। ভালো খবর হলো, আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছি। খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। ইরানীরা আমাদের শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার “চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব” রেখে এসেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই ঐতিহাসিক মুখোমুখি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ভ্যান্স ছাড়াও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
আলোচনার মূল বিষয় ছিল চলমান যুদ্ধের অবসান, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা। যুদ্ধ ইতোমধ্যে সপ্তম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিছু প্রযুক্তিগত কর্মকর্তা এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে, তবে প্রধান পর্যায়ের আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
এই ব্যর্থতার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে অচলাবস্থা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ১৯৭৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সবচেয়ে সরাসরি উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা ছিল, কিন্তু পরমাণু ইস্যুতে মতবিরোধ অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

