ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে কূটনৈতিক টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্বেগ।
সম্প্রতি হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পর এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য সংঘাতকে স্থায়ীভাবে থামানোর পথ খুঁজে বের করা। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে রুদ্ধদ্বার পরিবেশে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিজ নিজ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সামরিক উপস্থিতি এসব বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, লেবানন ইস্যু এবং ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা এই আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এরই মধ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতোমধ্যে দুই পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো সমাধান নাও আসতে পারে। তবে সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। অন্যথায়, অঞ্চলটি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

