নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট:
বালিশ, বাথরুমের নর্দমা কিংবা চুল আঁচড়ানোর সময় গোছা গোছা চুল পড়তে দেখলে অনেকেই আতঙ্কিত হন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট পরিমাণ চুল পড়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুল পড়া স্বাভাবিক কি না— তা বুঝতে হলে চুলের বৃদ্ধির চক্র সম্পর্কে জানা জরুরি। মানুষের মাথার প্রতিটি চুল তিনটি ধাপের মধ্য দিয়ে যায়— অ্যানাজেন, ক্যাটাজেন ও টেলোজেন।
অ্যানাজেন বা বৃদ্ধির পর্যায়ে চুল সক্রিয়ভাবে বাড়ে। এ সময় মাথার ত্বকের প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশ চুল বৃদ্ধি পায় এবং এই ধাপ ২ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এরপর ক্যাটাজেন ধাপে চুলের বৃদ্ধি ধীরে ধীরে থেমে যায়। এটি রূপান্তরকালীন পর্যায়, যা সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। শেষ ধাপ টেলোজেন— এ সময় চুল বিশ্রামে থাকে এবং ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে পুরোনো চুল ঝরে পড়ে নতুন চুল গজানোর পথ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলোজেন পর্যায়ের অংশ হিসেবেই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক চুল পড়ে। তাই একে সব সময় রোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
তবে চুল পড়ার পেছনে কিছু কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঋতু পরিবর্তনের সময়, বিশেষ করে শরৎ ও বসন্তকালে, অনেকের চুল পড়া বাড়ে। তাপমাত্রা ও দিনের আলোর পরিবর্তন চুলের ফলিকলে প্রভাব ফেলে বলে জানান চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি হরমোনের তারতম্য— যেমন গর্ভাবস্থা, প্রসব-পরবর্তী সময়, মেনোপজ কিংবা থাইরয়েডজনিত সমস্যাও চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
মানসিক চাপ, গুরুতর অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার কিংবা দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের ফলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্র ব্যাহত হতে পারে। এ অবস্থাকে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলা হয়, যা সাধারণত সাময়িক। শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি— যেমন আয়রন, ভিটামিন ডি ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হলে চুলের বৃদ্ধি আবার শুরু হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সারা বছর ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে প্যাচ বা প্রদাহ, নতুন চুল গজানোর হার কমে যাওয়া কিংবা চুল পড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ কখনো কখনো বড় কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।


