রাতটা যেন হঠাৎ করেই বদলে গিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে তখন অস্বস্তিকর এক নীরবতা। কিন্তু সেই নীরবতা ভেঙে গেল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। একের পর এক বিস্ফোরণ, সতর্কতামূলক সাইরেন আর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গর্জনে পুরো অঞ্চল যেন যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে ঢুকে পড়ল। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাল, নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-র বরাতে বলা হয় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল ইরানের চালানো সবচেয়ে তীব্র এবং শক্তিশালী হামলা।
অন্যদিকে ইসরায়েলের আকাশে তখন টানটান উত্তেজনা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ছোঁড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পেরেছে। মুহূর্তের মধ্যেই অনেক শহরে সাইরেন বেজে ওঠে, মানুষ ছুটে যায় আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। তবে কিছু সময় পর নতুন নির্দেশনায় সেনাবাহিনী জানায় পরিস্থিতি আপাতত নিরাপদ, নাগরিকরা শেল্টার থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু উত্তেজনা থামেনি অন্যত্র।
সৌদি আরবের আকাশেও তখন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, একটি তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনগুলো ঠিক কোথা থেকে বা কার পক্ষ থেকে ছোঁড়া হয়েছিল—সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। এদিকে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনেও হঠাৎ করে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে। কারণ, সেখানেই অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর—যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। ঠিক একই সময়ে আরেক প্রান্তে শুরু হয় ভয়াবহ দৃশ্য।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির আকাশ লালচে আগুনে আলোকিত হয়ে ওঠে। বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। সেই রাত যেন কেবল বিস্ফোরণ আর সাইরেনের গল্পই বলে গেল একটি অঞ্চল, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তেই যুদ্ধের উত্তাপ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

