দীর্ঘদিনের তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার মূল শর্ত হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত করে দিতে হবে। ইরান এই শর্ত মেনে নিতে রাজি হওয়ার পরপরই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা আসে।
এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব অঞ্চলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি পালনে একমত হয়েছে। বিরোধের একটি চূড়ান্ত এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল শুক্রবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
যুদ্ধবিরতির এই খবরে সাধারণ ইরানিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। তেহরানের রাস্তায় নেমে হাজার হাজার মানুষ পতাকা ও স্লোগান দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই সমঝোতার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে; বিশেষ করে যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। যদিও কিছু জায়গায় এখনো বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবুও ১০ এপ্রিলের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই শান্তির আশায় বুক বাঁধছে বিশ্ববাসী।

