ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহের টানা বোমাবর্ষণের পরও ইরানের শাসকগোষ্ঠীর অবস্থা যেমন ছিল, এখন তেমন নেই। তবে আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিত হলেও ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ‘নিশ্চিত নয়’।
নেতানিয়াহু বলেছেন, রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বাহিনী লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও আক্রমণ চালাতে থাকবে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুতেই যদি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মারা যেতেন, তবে হিজবুল্লাহ প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে হামলা চালাত। এ কারণে তেল আবিব লেবাননে টানা বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী খামেনির মৃত্যুর পর ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ মুজতাবা খামেনিকে দেশের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসিয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেছেন, “সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো নেতার জন্য জীবনবীমা নীতি নিতে পারছি না। আমরা কী পরিকল্পনা করছি বা কী করতে যাচ্ছি, তার বিস্তারিত এখানে জানানো সম্ভব নয়।”
ইসরায়েল বলছে, তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। তবে দুই সপ্তাহের হামলার পরও ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; উল্টো শহরগুলোতে সরকারপন্থি সমাবেশ হচ্ছে।
নেতানিয়াহু উল্লেখ করেছেন, “শাসকগোষ্ঠীর পতন নাও হতে পারে, তবে হামলার পর তারা ভয়ানক দুর্বল হবে। আমরা তাদের উৎখাতের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছি, এবং জনগণকে সহায়তা দিচ্ছি।”
ইসরায়েলি পক্ষের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের সরকারের দুর্বলকরণ এবং শাসকগোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি করা, কিন্তু সরাসরি ক্ষমতা পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই।

