ওমান উপসাগরের আকাশে তখনও ভোরের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব নীল জলের ওপর অদৃশ্য এক উত্তেজনা ভাসছিল। এই জলরাশি, যা সরাসরি যুক্ত ওমান উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালী–এর সঙ্গে মিলেছে, বহুদিন ধরেই বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের এক প্রধান সড়ক। এখানে প্রতিটি ঢেউ যেন বহন করে ভূরাজনীতির ভার।
দুই দিন আগেও এই জলপথে ইরানের ১১টি সামরিক নৌযান অবস্থান করছিল—এমনটাই দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড, United States Central Command, যা সংক্ষেপে সেন্টকম নামে পরিচিত। সোমবার এক্সে দেওয়া বার্তায় তারা জানায়, এখন সেই সংখ্যা শূন্য। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে ওই ১১টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকমের বার্তায় আরও অভিযোগ ছিল—ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই কৌশলগত জলপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হয়রানি ও হামলা চালিয়ে আসছে। এবার তারা বলছে, “সেই দিন শেষ।” আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহনের স্বাধীনতা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
এর আগের দিন, রোববার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ এক বার্তায় দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের নয়টি নৌযান ডুবিয়েছে এবং দেশটির নৌ সদর দপ্তরেও হামলা চালিয়েছে। তিনি কয়েকটি জাহাজকে “বড় ও গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন এবং আরও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেন।
তবে এই দাবিগুলোর বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নীরবতা যেন আরও ঘনীভূত করেছে পরিস্থিতির গুরুত্ব।
ওমান উপসাগর, যার ঢেউ ছুঁয়ে যায় হরমুজ প্রণালীর সরু পথ, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানকার প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রভাবও ফেলতে পারে। তাই ১১টি নৌযানের ধ্বংসের দাবি শুধু একটি সামরিক ঘটনার খবর নয়—এটি হয়ে উঠেছে বৃহত্তর শক্তির টানাপোড়েনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

