বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চীন ও ইরানের সম্ভাব্য কৌশলগত প্রভাব বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের শীর্ষ বিনিয়োগ বিশ্লেষক সৌরভ মুখার্জিয়া।
ভারতের মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত এই বিশেষজ্ঞ এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যদি চীন ও ইরানের মতো শক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তবে তা ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশ্লেষক সৌরভ মুখার্জিয়ার মতে, এই সংকট কেবল সাময়িক উত্তেজনা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার সম্ভাব্য লড়াইয়ের অংশ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন কৌশলগতভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বাড়াতে চাইছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এ বিষয়ে কার্নেগি এনডাউমেন্ট সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলছেন, চীন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক বন্দরে বিনিয়োগের মাধ্যমে বেইজিং একটি প্রভাব বলয় গড়ে তুলছে বলেও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতির জন্যও চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রার ওপর চাপ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ অনিশ্চিত হওয়ার কারণে ভোগব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

