ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনা আপাতত শেষ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)।
আজকের আলোচনার কোনো বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আলোচনার পর ইরানি প্রতিনিধিদল নিজ নিজ বাসভবনে ফিরে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই আলোচনাকে ‘ভালো শুরু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যদিও এখনো অনেক বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে, তবে সেগুলো নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তাঁর প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয় ওমানের রাজধানী মাস্কাটে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির ভূমিকার প্রশংসা করে আরাঘচি বলেন, আজকের আলোচনা ছিল দীর্ঘ ও নিবিড়। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান ও মতামত উপস্থাপন করেছে।
মার্কিন পক্ষ ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং ‘নিজ জনগণের সঙ্গে আচরণ’—এই বিষয়গুলো আলোচনায় আনতে চেয়েছিল বলে এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করবেন না এবং তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে।
আলোচনা অব্যাহত থাকবে কি না—এ বিষয়ে আরাঘচি বলেন, দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে পরামর্শের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ভবিষ্যৎ আলোচনার সময়, স্থান ও পদ্ধতি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি বলেন, এই আলোচনা উভয় পক্ষের মানসিকতা স্পষ্ট করতে এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে আলোচনা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগের আহ্বান জানিয়ে একটি সতর্কবার্তা জারি করে। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যোগাযোগ সীমাবদ্ধতা, ফ্লাইট বাতিল ও সড়ক বন্ধ থাকার বিষয় উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে স্থলপথে আর্মেনিয়া ও তুরস্কে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

