ইরান যে কোন লেভেলে খেলছে তা যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো ভাবেই টের পেয়েছে! মার্কিন MC-130–এর ধ্বংসস্তূপ থেকে পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক ও গোপন প্রযুক্তির ছবি প্রকাশ করেছে আইআরজিসি।
গত ৫ই এপ্রিল ইরানের ইসফাহানে এক ব্যর্থ উদ্ধার অভিযানে মার্কিন বাহিনী তাদের MC-130 বিমানগুলো ধ্বংস করে পালিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, আগুনের শিখায় তাদের গোপন প্রযুক্তি রক্ষা পাবে।
কিন্তু বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা সেই ধ্বংসাবশেষ থেকেই উদ্ধার করেছেন অক্ষত Guardian Laser Transmitter Assembly, যা এখন ইরানের রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপেক্ষায়।
প্রযুক্তির দিক থেকে এটি সত্যিই এক অনন্য এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যবস্থা। LAIRCM (Large Aircraft Infrared Countermeasures) সিস্টেমটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ‘ডাইরেক্টেড এনার্জি’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে একটি।
সাধারণত বিমানগুলো তাপ-সনাক্তকারী মিসাইল থেকে বাঁচতে ‘ফ্লেয়ার’ বা আগুনের গোলা ছাড়ে। কিন্তু এই সিস্টেমে ফ্লেয়ার না ছুড়ে সরাসরি হাই-পাওয়ার লেজার ব্যবহার করা হয়। এটি মিসাইলের ইনফ্রারেড সিকার বা ‘চোখ’কে সেকেন্ডের ভগ্নাংশে অন্ধ করে দেয়। মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে।
একটি মিসাইল লঞ্চ হওয়ার সাথে সাথে এটি সেটিকে ট্র্যাক করে লেজার বিম ছুড়তে পারে। যা পৃথিবীর খুব কম দেশের কাছেই আছে। এটি শুধু একটি মিসাইল নয়, বরং একসাথে ধেয়ে আসা একাধিক মিসাইলকেও মোকাবিলা করতে সক্ষম।
মার্কিন বিমান বাহিনীর বড় কার্গো বিমান (যেমন C-17 বা MC-130) এবং ভিআইপি বিমানগুলোতে (যেমন Air Force One) এটি ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে রাশিয়া বা চীনের কাছেও একই ধরনের সিস্টেম রয়েছে। যেমন রাশিয়ার Vitebsk। তবে প্রযুক্তির সূক্ষ্মতা এবং কার্যকারিতার দিক থেকে মার্কিন AN/AAQ-24(V) সংস্করণটিকে সবচেয়ে আধুনিক ও সংবেদনশীল ধরা হয়।
এই কারণেই ইরানের হাতে এই প্রযুক্তির কোনো অংশ পৌঁছানো আমেরিকার জন্য এত বড় একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাথা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে! কারণ এই প্রযুক্তির ইরান এখন পাল্টা ব্যবস্থা আবিস্কার করবে।

