আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গঠনমূলক আলোচনা’ সংক্রান্ত দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়ে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম কমানো এবং সামরিক প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় নেওয়ার একটি কৌশল মাত্র। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুদ্ধের সূচনা তারা করেনি এবং এই সম্ভাব্য সংঘাতের সব দায়ভার ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।
সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ
ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম ফার্স ও তাসনিমের বরাতে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো আলোচনা হয়নি। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের কঠোর হুঁশিয়ারিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেই মূলত যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না এবং জ্বালানি বাজারেও দ্রুত স্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিত নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। আল-জাজিরার তথ্যমতে, জিএমটি ১১:০৮ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলে প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১৩ ডলার বা প্রায় ১৩.৫ শতাংশ কমে সেশন লো ৮৫.২৮ ডলারে অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে জাহাজে ইরানের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছিল। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমনের কিছু উদ্যোগ থাকলেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

