সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনার জন্য শিগগিরই ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আলোচনার স্থান ও পরিসর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় একপর্যায়ে এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ আলোচনা এগোচ্ছে। গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠক। ওই যুদ্ধে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
গত মাসে দেশব্যাপী সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের সহিংস পদক্ষেপের ঘটনায় মার্কিন প্রতিক্রিয়ার পরই এই আলোচনা শুরু হচ্ছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে যে এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
যদিও বৈঠকের স্থান এবং এর পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আলোচনা পণ্ড হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ পরিত্যাগ করতে হবে। আলোচনায় ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি দেশটির সমর্থন এবং নিজ নাগরিকদের সঙ্গে আচরণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হয়েছে।
তবে ইরান বলেছে, আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই মতপার্থক্যের আদৌ সমাধান হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
উভয় দেশ এখনও বিপরীতমুখি অবস্থানে থাকলেও আশা করা হচ্ছে যে, যদি আলোচনা সফল হয়, তাহলে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে।
এদিকে আক্রমণের জবাবে শক্তি প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরায়েলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক সম্পদে আঘাত করার হুমকি দিয়েছে তারা।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী “তাদের আঙুলের ট্রিগারে” রয়েছে।

