ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় এবার ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘বেন গুরিয়ন’-এ ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার (৬ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। এছাড়া ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবেও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, তেল আবিবের আকাশে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আইরন ডোম) সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমে সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানে শুরু করা সামরিক অভিযানের সময়সীমা নিয়ে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শুরুতে ট্রাম্প ৪ সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করার আশা ব্যক্ত করলেও এখন তিনি বলছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।
ব্রিটিশ সাময়িকী ‘টাইম’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার কোনো নির্ধারিত সময়সীমা নেই। ইরানে আমি শুধু আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে চাই। যত সময় লাগুক, আমরা পিছু হঠব না।”
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে তাঁর লক্ষ্যগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান:
১. ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
২. ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে।
৩. মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব খর্ব করা।
৪. ইসরায়েলের নিরঙ্কুশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ এর আগে যুদ্ধ ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত চলার আভাস দিলেও ট্রাম্পের বর্তমান বক্তব্যে এটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো ব্যবহারের মতো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

