ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ কমান্ডারদের নিহতের প্রতিবাদে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযানের ঘোষণা দেয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি তাদের প্রতিশোধ নিতে ছয় দফায় হামলা শুরু করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এছাড়া ইসরায়েলের তেল আবিবের ‘তেল নব’ বিমান ঘাঁটি এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তবে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও কোনো সেনার হতাহতের খবর এখন পর্যন্ত অস্বীকার করেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে সতর্ক করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান জানিয়েছে তারা আজ প্রচণ্ড আঘাত হানবে, যা তারা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তারপরেও যদি তারা তা করে, তবে আমরা তাদের ওপর এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করব যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি!”
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ক্ষেপণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমানের গর্জনে প্রকম্পিত। একদিকে ইরান তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মরিয়া, অন্যদিকে ট্রাম্পের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই সংঘাত এখন বিশ্বশান্তির জন্য এক চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

