উত্তর-পূর্ব ভারতের এক সরু ভূখণ্ড, যা সবাই ‘চিকেন্স নেক’ নামে চেনে, সেই এলাকায় এখন গড়ে উঠছে এক রহস্যময় রাজপথ। দিনের আলো কখনো পৌঁছায় না, কিন্তু মাটির নিচে চলছে আধুনিক প্রযুক্তির চমক—দুটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গ, যা একদিকে ট্রেনের জন্য, অন্যদিকে সড়ক যানবাহনের জন্য তৈরি হচ্ছে। শিলিগুড়ি থেকে রাঙাপাণি পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ পথ যেন লুকানো এক শহরের সুনির্মিত নালি।
সেখানে ভেতরে চলতে চলতে যেন ভেসে আসে এক যুদ্ধের গল্প। মাটির ওপর শত্রুর চোখ থাকতে পারে, কিন্তু মাটির নিচের এই পথ অদৃশ্য। সুড়ঙ্গের পাশেই স্থাপিত হচ্ছে নতুন সেনা ঘাঁটি। এক প্রয়োজনে সৈন্যরা এক মুহূর্তে চলে আসতে পারবে—রেল, সড়ক, বিমান ঘাঁটি সব একসাথে সংযুক্ত। সুড়ঙ্গের ভিতরে শক্ত কংক্রিটের দেয়াল, অদৃশ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা, সবই যেন এক গোপন কৌশল তৈরি করছে।
এদিকে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদীর তল দিয়ে তৈরি হচ্ছে আরও একটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গ। নদীর ঘূর্ণায়মান পানি উপরের স্তরকে ঢেকে রাখছে, কিন্তু মাটির নিচে ট্রেন চলে যাবে শান্ত, নিরব। এক সুড়ঙ্গ ট্রেনের জন্য, অন্যটি গাড়ির জন্য—দু’টি পথ যেন একসাথে একটি ভূগর্ভস্থ শহরের রাস্তাঘাট। এখন যেখানে ছয় ঘণ্টা লাগে, সেখানে সুড়ঙ্গ তৈরি হলে এক মুহূর্তের মতো দ্রুত সময় কেটে যাবে।
কল্পনা করুন, গভীর রাত। বাইরে অন্ধকার, ঝড় বা বন্যা—কিন্তু মাটির নিচে সৈন্য, সরঞ্জাম, পণ্য, এবং সাধারণ যাত্রীদের চলাচল অব্যাহত। কেউ ভাবতেও পারবে না, ভূগর্ভস্থ এই রেলপথে প্রতিটি মুহূর্তে দেশ রক্ষা ও অর্থনীতির কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সুড়ঙ্গ শুধু রেলপথ নয়, এক গুপ্ত কৌশল। শত্রু দেশ যা দেখবে না, যাত্রী যা উপলব্ধি করতে পারবে না, তবু এই ভূগর্ভস্থ রেল ও সড়ক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডকে শক্তভাবে জুড়ে রাখছে। এই অদৃশ্য রাজপথের মধ্য দিয়ে চলবে দেশের ভাগ্য—নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও যুদ্ধ প্রস্তুতি একসাথে।
মাটির নিচে প্রতিটি কংক্রিটের স্তর যেন এক গোপন গল্প বলছে—এক দেশের কৌশল, এক প্রকৌশলীর স্বপ্ন, এবং এক জাতির নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি।

