রাজশাহী প্রতিনিধি :
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, সরকার কখনও ব্যবসা করার চিন্তা-ভাবনা করে না, বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং রুগ্ন যে শিল্পগুলো বন্ধ হয়ে আছে সেগুলোকে চালু করা। সেটা বেসরকারিভাবে হোক বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে হোক না কেন আমরা সেই শিল্পগুলোকে আবার সচল করতে চাই। সেক্ষেত্রে শুধু সরকারিভাবে করতে হবে এমন কথা নয়, প্রাইভেট সেক্টরকেও উৎসাহিত করা যেতে পারে।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) শনিবার সকালে রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ‘রাজশাহী সিল্কের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জাপান থেকে বিনিয়োগকারী দল আসবে। আপনারা যারা ফ্যাক্টরি মালিক আছেন, আমরা আপনাদের সাথে সংযোগ করিয়ে দিব। কীভাবে এ শিল্পকে প্রসার করা যায়, মার্কেট বৃদ্ধি করা যায় এবং গবেষণার মাধ্যমে প্রান্তিক চাষীদের সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারা যায় সে লক্ষ্যে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নিজে ডেকে রাজশাহী সিল্ক এর বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। রেশম নিয়ে উনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং কীভাবে এই হারানো রেশমের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজশাহীকে‘ সিল্কসিটি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশকিছু এলাকা নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য পরিচিত যেমন কক্সবাজার পর্যটন নগরী, চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী, সিলেট চা-এর দেশ ঠিক তেমনি রাজশাহী সিল্কসিটি নামে পরিচিত। এটি একটি জিআই পণ্য, এটি ঐতিহ্য, এটি আবেগ। এই হারানো ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি এটাকে আধুনিকায়ন করে নতুনভাবে এটার প্রসার বৃদ্ধি করতে হবে, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমাদের কাজ করতে হবে।
রেশম সেক্টরকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিবেশ, তাপমাত্রাসহ অনেকগুলো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। এখানে গবেষণার পাশাপাশি প্রান্তিক চাষী অর্থাৎ বোসনীদের বাঁচিয়ে রাখা, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাসহ অনেকগুলো বিষয় জড়িত। এখানে যারা সুতা, তুঁতপাতা, পলুচাষী, গবেষণার সাথে জড়িত শিক্ষকগণ আছেন আমরা আপনাদের সকলের পরামর্শ চাই। এটা শুধু মিটিং নয়, এটা এ এলাকার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবার একটি সূচনা। রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিটি সেক্টরের পরামর্শ আমাদের প্রয়োজন। আপনাদের গবেষণা প্রয়োজন, চাষীদের ট্রেনিং প্রয়োজন তাই আমরা সেই জায়গায়ও কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আপনারা পরিবেশ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে চাষাবাদের জন্য রেশমচাষীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে আমাদের অবশ্যই এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এসময় জনগণের স্বার্থে, রাজশাহী সিল্কের স্বার্থে বিশেষজ্ঞদের নিকট লিখিত পরামর্শ আহ্বান করেন তিনি।
বিভিন্ন সেক্টরে গবেষণায় সরকারের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে নাকি গবেষণার জন্য মাত্র ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল যেটা অপ্রতুল। এটা শুনে প্রধানমন্ত্রী অতি দ্রুত ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং আরও বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি ভোটের অমোচনীয় কালি মোছার আগেই সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করেন এবং পহেলা বৈশাখে কৃষককার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন হবে বলেও জানান।মতবিনিময় সভার পূর্বে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক মোছা. নাছিমা খাতুন।
—

