বিধান মন্ডল (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় নানা আয়োজনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ইং পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১মিনিটে উপজেলা পরিষদের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রথমে ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এর পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সালথা থানা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা অফিসার্স ক্লাব, সালথা প্রেসক্লাব, উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর উপজেলা পরিষদের চত্বর থেকে সকাল ৯টায় প্রভাত ফেরি র্যালি বের হয়ে সালথা সদর বাজারসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের চত্বরে এসে শেষ হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদের হল রুমে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা কৃষি অফিসার সুদর্শন শিকদার, সালথা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মন, সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. শাহিন মাতুব্বর, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মাসুম বিল্লাহ সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি” গানের সুর বাজতে থাকে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সকলেই কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৫২ সালের আজকের এই দিনে ভাষা আন্দোলন দমন করতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৪৪ ধারা জারি ভঙ্গ ছাত্ররা মিছিল করেন। পাকিস্তানি বাহিনী সেই মিছিলে গুলি চালায়। গুলিতে শহীদ হন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকই। তাঁদের স্মরণেই এই শহীদ মিনারের সামনে এসে সকলেই বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধা-ভালোবাসার ফুলে ছেয়ে যায় মিনারের বেদি।

