দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং পাচার রোধে বড় ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। অবৈধ মজুতদার ও পাচারকারীদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
তথ্যের গুরুত্ব ও মজুত করা তেলের পরিমাণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্য প্রদানকারীর নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (DC) যাচাই-বাছাই শেষে এই পুরস্কারের অর্থ প্রদান করবেন।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে:
১. আন্তর্জাতিক অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
২. অসাধু সিন্ডিকেট: এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি না করে তা গোপনে মজুত করছে এবং পরবর্তীতে উচ্চমূল্যে বিক্রি করার চেষ্টা করছে।
৩. সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা: উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত তেলের সঠিক সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের কাছে নায্যমূল্যে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান।
সরকার জানিয়েছে, ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসন বেশ কিছু অসাধু চক্রকে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় এনেছে। তবে এই অসাধু প্রবণতা বাড়তে থাকায় এখন সাধারণ জনগণের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।
যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কোথাও অবৈধ মজুত বা সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের তথ্য পায়, তবে তা নিকটস্থ জেলা প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

