পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতীয় সংগীতের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী আশা ভোঁসলে। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। এনডিটিভিসহ ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পাশাপাশি তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন। ইমার্জেন্সি ইউনিটে টানা লড়াইয়ের পর আজ দুপুরে সুরের এই জাদুকরী চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।
আশা ভোঁসলে কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে দীর্ঘ আট দশকে হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন তিনি।
শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে পপ, গজল, লোকসংগীত এবং বিশেষ করে হিন্দি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
লতা মঙ্গেশকরের বোন এবং আর. ডি. বর্মণের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও নিজের স্বকীয়তা ও বহুমুখী গায়কি দিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন মহাতারকার উচ্চতায়।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’। ২০০৮ সালে তিনি ‘পদ্মবিভূষণ’ (সূত্রভেদে পদ্মভূষণ) সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়া ১৯৯৭ সালে তিনি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন, যা ছিল ভারতীয় সংগীতের জন্য এক বড় অর্জন।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে ভারতসহ গোটা উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংগীত জগতের তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বাঙালির কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আপন; বাংলা ভাষায় তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান চিরকাল শ্রোতাদের হৃদয়ে অনুরণিত হবে।
সুরের ভূবনে যে অভাবনীয় শূন্যতা তিনি রেখে গেলেন, তা হয়তো কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর কণ্ঠের জাদুতে তিনি অমর হয়ে থাকবেন কোটি মানুষের হৃদয়ে।

