বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রচুর অর্থ ব্যয় ছাড়া সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “১০-২০ কোটি টাকা না থাকলে এখন নির্বাচন করা যায় না। ফলে যাদের কালো টাকা আছে তারাই নির্বাচনে এগিয়ে থাকে।”
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “মানুষ কি টাকা ছাড়া ভোট দেবে? বাস্তবতা হলো—টাকা ছাড়া নির্বাচন করা কঠিন। তাই প্রতিবার ভাবতে হয়, নির্বাচন করব কি করব না, করলে কীভাবে করব।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা তারা পাননি। পাশাপাশি স্বীকার করেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণ নেতৃত্বেরও কিছু ভুল ছিল।
তার ভাষায়, “৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরপরই অনেক রাজনৈতিক নেতা এস্টাবলিশমেন্টের কাছে চলে গেলেন। আমরা তখন ২৫-২৬ বছরের কিছু তরুণ ছিলাম। বড়দের ভূমিকা তখন জরুরি ছিল, কিন্তু তারা দায়িত্ব অন্যত্র ছেড়ে দেন।”
সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আলোচনার ‘মধ্যস্থ মঞ্চ’ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলেও জানান তিনি।“আমাদের বলা হলো ক্যান্টনমেন্টে যেতে। আমরা বললাম, সেটা সম্ভব নয়। শেষে এমন একটি স্থানে আলোচনায় বসতে হলো যেখানে ভারসাম্যটা হারিয়ে যায়।”
এ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন – এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিনসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে আসিফ মাহমুদ এখনো জানিয়ে আসছেন—তিনি যদি কোনো দলের হয়ে নির্বাচন করেন, তবে উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেবেন।

