এম.শাহীন আল আমীন,জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ
জাতীয় সংসদের জামালপুর জেলায় আসন সংখ্যা ৫টি। ৭টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভায় জামালপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৩৫ হাজার ১০৬ জন। ৫টি আসনেই বিএনপি জোটের দলীয় প্রতীক নিজস্ব ধানের শীষ। জামালপুরে বিএনপির জোটের শরীক দলের কোন প্রার্থী নেই। জেলায় বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলে মোট প্রার্থী ৩০ জন।জামালপুর জেলার ৫টি আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন যারা তা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি একজন জন পরিচিত মুখ।
২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আবুল কালাম আজাদকে পরাজিত করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। তিনি জামালপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-১ আসন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী তথা ১০ দলীয় জোট প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সূরা সদস্য এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী। তিনি সাবেক ব্যাংকার। সরকার পতনের পর থেকেই দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে কাজ করছেন। দীর্ঘ সময় ভোটের মাঠে অবস্থান করায় নাজমুল হক সাঈদী আলোচনার লাইম লাইটে চলে এসেছেন।
বিএনপির জোট মনোনীত প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দশ দলীয় জোট প্রার্থী। অর্থাৎ জামালপুর-১ আসনে ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার মধ্যে শক্ত লড়াই হবে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০৭ জন। এ আসনে মোট প্রার্থী ৫জন।
জামালপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি এ.ই সুলতান মাহমুদ বাবু। জামালপুর-২ আসন ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনেও বিএনপি জোট প্রাথীর্র প্রতীক ধানের শীষ। এ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দল মিটিয়ে শক্ত অবস্থানে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি এ.ই সুলতান মাহমুদ বাবু। কোন্দল অবসানের মূল ভ’মিকা পালন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
জামালপুর-২ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী জামায়াতের সাংগাঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী। তিনি দক্ষতার সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন। নিজের যোগ্যতা ও দলীয় নেতা-কর্মীদের শৃংখলা কাজে লাগিয়ে দাড়িঁপাল্লাকে পরিচিত করে তুলেছেন। এ আসনে মোট প্রার্থী ৪ জন হলেও লড়াই হবে দ্বী-মুখি। ভাসমান ধারনা চমকে দিতে পারে নীরব ধারনার হিসাব। জামালপুর-২ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ১০৩ জন।
মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসন জামালপুর-৩। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। এ আসনে বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ভোটের মাঠে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারবেনা। কারণ জামালপুর-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল হিরো হিসেবেই পরিচিত।
এ আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। ৯জন প্রার্থীর মধ্যে ধানের শীষ ও দাড়িঁপাল্লার মধ্যেই মূল লড়াই হবে। জামালপুর-৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান আজাদী। বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের ধাক্কা সামলিয়ে তার দাড়িঁয়ে থাকা খুব সহজ না। তার পরেও নিজের যোগ্যতা ও দলের গ্রহন যোগ্যতা বরকতে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম শক্তভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন। জয়ের আশাবাদী। তবে বাস্তবতা কঠিন। জামালপুর-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ রাখ ৩৯ হাজার ৫০৪ জন।
বিএনপির কেন্্রীয় কমিটির সাবেক মহা সচিব মরহুম ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের আসন বলে পরিচিত জামালপুর-৪ আসন। সরিষাবাড়ী উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। এ আসনে চলতি নির্বাচনে বিএনপি জোটের একক প্রার্থী জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির শামীম তালুকদার। তিনি বিএনপির জেলার রাজনীতিতে একজন আলোচিত ভদ্রমুখ। পারিবারিক প্রভাব ভোটের মাঠে বিদ্যমান আছে। সুবিধাও পাচ্ছেন। আর এ কারণে ধানের শীষের ভোটের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। শামীম তালুকদারের শক্ত ঝাঁকুনি সামাল দেওয়া সকল প্রার্থীর পক্ষেই কঠিন।
প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সব কিছু মোকাবেলা করে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী জামালপুর জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল। জেলা জুড়ে তিনি পরিচিত ও আলোচিত। তবে তালুকদার পরিবারের দাপট সামলানো কঠিন। জামালপুর-৪ আসনে মোট প্রার্থী ৬ জন। মোট ভোটার ৩ লাখ ৪ হাজার ৯৯২ জন। জামালপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের জামালপুর-৫ আসন। এ আসনে জেলার সুপরিচিত মুখ ও কর্মী বান্ধব নেতা এডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
ওয়ারেছ আলী মামুন গরীবের বন্ধু বলে পরিচিত। অনেক প্রতিকুল পরিবেশেও মাঠ ছেড়ে দেননি এডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন। নানা কৌশলে প্রতিকুল পরিবেশেও তিনি রাজনৈতিক মাঠ নিজের দখলে রেখেছেন। যার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ঠাই করে নিয়েছেন ধানের শীষের প্রাথী মামুন। জামালপুর-৫ আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন। ৮ জনের মধ্যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠেছে দাড়িপাল্লা। এ আসনে জামাতে জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার। তার প্রতীক দাড়িপাল্লা। ধানের শীষের সাথে টেক্কা দিয়ে সমানতালে নির্বাচনী প্রচারনা চলমান রেখেছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠার চেষ্টা করছেন। মামুনের ভোট ব্যাংক ভাঙ্গার মরণপণ চেষ্টা করছেন সাত্তার।
এ আসনে ধানের শীষের ভোট ব্যাংক রক্ষা ও দাড়িঁপাল্লার ভোট বাড়ানোর টানাটানি কৌশল জমে উঠেছে। তবে মামুনকে টেক্কা দিয়ে বিজয়মালা পড়া কঠিন হবে। জামালপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮০০ জন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৬৩৩টি।

