সুমন প্রামাণিক, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল প্রতি ১০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা এবং দেশে সীমিত সময়ের জন্য তেল মজুদ রয়েছে—এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় ফিলিং স্টেশনগুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১০০ টাকার বেশি তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক মোটরসাইকেল আরোহী। তাদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনগুলো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিন্ডিকেট ব্যবসার চেষ্টা করছে। সেই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতি মোটরসাইকেলে ১০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
অপরদিকে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে সর্বোচ্চ ১০ লিটার পর্যন্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পেট্রোল ও ডিজেল পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে অকটেন নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। বাস ও ট্রাকের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
উপজেলার বনপাড়া মদিনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কৃষ্ণপদ প্রামাণিক জানান, “তেলের ডিপোতে অনেক চেষ্টা ও তদবির করে আমরা এক গাড়ি পেট্রোল ও এক গাড়ি ডিজেল আনতে পেরেছি। সবাই যেন কিছুটা হলেও তেল পায়, সেজন্যই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাতের মধ্যেই এই তেল শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর হয়তো ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হতে পারে।”
উপজেলার আহম্মেদপুর কানন ফিলিং স্টেশনের মালিক ধীরেন্দ্রনাথ সাহা জানান, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলো সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এতে করে কেউ যেন তেল সংকটের অজুহাতে বা দাম বাড়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল মজুদ করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্যমতে দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল, ১৭ দিনের অকটেন এবং ৯ দিনের পেট্রোল মজুদ রয়েছে—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকে অতিরিক্ত তেল মজুদের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল ছালাম বলেন, তেল সংকট নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ালে, অবৈধভাবে তেল মজুদ করলে বা আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড ঘটালে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে কিছু সাময়িক সংকট দেখা দিতে পারে। তবে আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

