মোঃ রওকত আলী, রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর সদর উপজেলা সহ আট উপজেলায় চলছে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রয়ের মহোৎসব। মাঝেমধ্যে ওইসব মাটি বিক্রয়ের পয়েন্টে প্রশাসন হানা দিলেও থেমে নেই মাটি উত্তোলন ও বিক্রয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুরের বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, গংগাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা উপজেলায় চলছে মাটি উত্তোলন ও বিক্রয়। সবচেয়ে বেশি অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রয়ের এগিয়ে রয়েছে বদরগঞ্জ পীরগাছা উপজেলা। ওইসব মাটি বিক্রয়ের স্পটগুলো ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে দেদারছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের কারণে চলাচলের রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরে গেছে। যা চলাচলে একদম অনুপযোগী।
বৃহস্পতিবার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বলপুর ইউনিয়নের গোপাল বেকাটারী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় যে, কোন প্রকার সরকারি অনুমতি ছাড়াই ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করে ইট ভাটায় মাটি দদ বিক্রয় করছে।
এ সময় স্থানীয়রা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পীরগাছা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম ডালেসের পয়েন্ট এটি।
ঘটনার সত্যতা জানতে মো: শরিফুল ইসলাম ডালেসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কোন মাটি বিক্রয়ের সঙ্গে আমার কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলছি।
তবে, এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার মো: তারিফুল ইসলামের সহধর্মিণী ও পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা: নওরিন জাহান জানান, আইনে মাটি উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ এটি আমার জানা ছিল না। এখন যেহেতু জানলাম, তাই কাজ বন্ধ করে দিচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক জানান, সচেতনতার অভাবে মানুষজন মাটি উত্তোলন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তবে, সকলের সমষ্টিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি বন্ধ করা সম্ভব।

