জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের ধারা যদি ফলাফলে প্রতিফলিত হয়, তাহলে তার দল নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে। তিনি বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর জন্মের পর থেকে আমাদের দল বারবার নিষিদ্ধ হয়েছে। তবুও থেমে থাকিনি। যারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তারা চলে গেছেন। কারোর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, আবার কেউ জুলুমের শিকার হয়ে গেছেন। আমরা থেমে থাকিনি।”
ফলাফলের প্রাথমিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। তবে অগ্রিম কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়। জনগণের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে কিছু আভাস পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু এটিকে নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না। দেশের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ। এখন পর্যন্ত যে ফলাফল এসেছে, বেশিরভাগ কেন্দ্রে এগিয়ে আছি। আমাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।”
প্রবাসীদের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “গত তিন নির্বাচনে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারেননি। এবার তারা ভোট দিয়েছেন। তারা জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বহু অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত ছিলেন। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হলে বাকিগুলোও ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। আমরা যদি তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করি, তারা আমাদের আরও উজাড় করে সহায়তা করবে।”
জুলাই আন্দোলন এবং এর সময়ে সহায়তা দেওয়া মা ও বোনদের প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ে যারা রেমিটেন্স না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সরকারের ভীত নড়েছে। বহু জায়গায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে, কেউ কেউ জেলে মারা গেছেন। আমরা তাদের স্বীকৃতি দিচ্ছি। ক্ষমতায় এলে তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। জুলাইয়ে মাঠে নেমে বিক্ষোভ করা মা ও বোনদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা চেষ্টা করব তাদের সেরা মর্যাদা দিতে।”
সংবাদকর্মীদের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “সংবাদকর্মীরা আমাদের সহায়তা করেছেন। খোঁজ নেওয়া আমার দায়িত্ব ছিল, কিন্তু করতে পারিনি। ক্ষমা চাই। একা কোনো প্রকারের পক্ষে দেশ গড়া সম্ভব নয়। রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের চারপাশের সব বিষয় খেয়াল রাখতে হয়।”
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “অনেক শঙ্কা ছড়ানো হয়েছিল, কিন্তু বড় কোনও কেলেঙ্কারি হয়নি। সমাজে একসাথে চলতে গেলে ভুলভ্রান্তি স্বাভাবিক।”
নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আজও আমাদের দেখা হয়েছে। যেকোনো একজন জিতবে, আমরা তাদের জয় মেনে নেব। নির্বাচিত হলে সবার পরামর্শ নিয়ে একসাথে কাজ করবো। সরকারে গেলে সকল দলকে পাশে চাইবো। যেসব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে, তা বজায় রাখবো। খোলা মন নিয়ে সবার প্রাপ্য দেব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এবার যত পর্যবেক্ষক এসেছে, তা অতীতে কখনো আসেনি। তাদের উপস্থিতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

