২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে না খেলার ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানায়, দলকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা খেলবে না।এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, এ বিষয়ে এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত তারা পায়নি। সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানা থাকলেও বোর্ডের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আইসিসি বলেছে, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নির্ধারিত কোনো ম্যাচ বর্জন করা বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সূচি অনুযায়ী সব দলের অংশগ্রহণই টুর্নামেন্টের ন্যায্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নিশ্চিত করে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইসিসির প্রতিযোগিতাগুলো ক্রীড়াসুলভ আচরণ, ন্যায়সংগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। নির্দিষ্ট ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সরকারের ভূমিকা তারা স্বীকার করে। তবে এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক ক্রিকেট সম্প্রদায় এবং সমর্থকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।আইসিসি পিসিবিকে সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু একটি টুর্নামেন্টে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; বরং দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে, যেখানে পিসিবি নিজেও একটি অংশীদার।
তাদের ভাষ্য, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করাই আইসিসির প্রধান লক্ষ্য, এবং এ জন্য সব সদস্য বোর্ডের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে না খেলার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ পাকিস্তান সরকার প্রকাশ করেনি। এর আগে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ইস্যুতে আইসিসির সমালোচনা করেছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারত–পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ। তারা সাধারণত কেবল আইসিসি বা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টেই মুখোমুখি হয়ে থাকে। গত এশিয়া কাপেও দুই দলের খেলোয়াড়দের আচরণ ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

