ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণ, সামরিক স্থাপনায় হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাই না।” তার এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, কোনো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ কিংবা তার হুমকি নিষিদ্ধ।
সমালোচকেরা বলছেন, এই অভিযান ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতিরই আরেকটি উদাহরণ। বিশেষ করে এমন সময়ে এই হামলা হয়েছে, যখন মাত্র এক মাস আগেই তিনি ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ পেয়েছিলেন।
হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে কার্যত ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ব্যবহার করবে। যদিও তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মার্কিন নীতিগত নির্দেশনা অমান্য করা হলে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
দ্য আটলান্টিককে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ যদি “সঠিক সিদ্ধান্ত” না নেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
সম্প্রতি ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচারণা জোরদার করেছেন। এর আগে তিনি ইসরাইলের সঙ্গে একযোগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশও দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে পশ্চিম গোলার্ধে নিজের স্বার্থ রক্ষায় নির্বিঘ্নে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে।
তবে আন্তর্জাতিক আইন ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এমন অবজ্ঞা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েটের মতে, আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যানের এই ধারা “অত্যন্ত বিপজ্জনক” এবং বিশ্বব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।
