আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত গৃহবধূর পিতার দাবি তার মেয়েকে হত্যা করে স্বামী পালিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
শুক্রবার (১৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ শাহিদা বেগম (২৮) একই এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে সৌদি প্রবাসী মকসুদ আহমদের স্ত্রী এবং সদর ইউনিয়েন আন্নর আলী মাতবর পাড়া এলাকার বদিউল আলমের মেয়ে।
শাহিদার পিতা বদিউল আলম বলেন, সকাল থেকে আমার মেয়েকে মারধর করে আসছিল। মারধরের এক পর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে হত্যার আলামত ভিন্নভাবে চালিয়ে দিতে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে পাষণ্ড স্বামী মৃতদেহ রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিদার সাথে সৌদি প্রবাসী মকসুদের ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। নিঃসন্তান শাহিদা ও মকসুদ দম্পতির ৫ বছর বয়সী পালিত কন্যা সন্তান রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানায়, সকাল থেকে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাড়ির চারপাশে পাকা ওয়াল ও গেট বন্ধ থাকায় বাহির থেকে কেউ ভিতরে ঢুকতে পারেনি। জুমার নামাজের পর পালিত কন্যা মাহি কান্নাকাটি করলে স্থানীয়রা এসে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেয়।
নিহতের পিতা আরও বলেন, মকসুদ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চায়, এ জন্যে শাহিদাকে প্রায় সময় মারধর করতো। শুক্রবার সকাল থেকে মকসুদ আমার মেয়েকে মারধর করছে। মারধরের এক পর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে আমার মেয়েকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের পর গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে সহযোগিতার করি। ঘটনার পর স্বামী মকসুদ পলাতক রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম বলেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকা থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। স্বামী পলাতক রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

