মীর সবুর আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং “অপ্রাপ্য অপশন” কার্যকর না হওয়ায় হতদরিদদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের অনেক শিশু নাগরিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে শিশুদের পাচার ও বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে অনেক নিবন্ধন কর্মকর্তা বিকল্প পদ্ধতিতে জন্মনিবন্ধন করতে অনাগ্রহী। তাদের দাবি, এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তারা ঝুঁকি নিতে চান না। তবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যাচাই সাপেক্ষে বিকল্প প্রমাণের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিশুরা সহজেই পরিচয়হীন হয়ে পড়ে, যা পাচারকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে শিশুদের পাচার ও যৌন শোষণে
জড়াচ্ছে। সুশীল সমাজ ও শিশু অধিকারকর্মীরা “অপ্রাপ্য অপশন” কার্যকরভাবে প্রয়োগ, মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট নির্দেশনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জন্মনিবন্ধন একটি শিশুর অধিকার ও সুরক্ষার প্রথম ধাপ এটি নিশ্চিত করা জরুরি।
অভ্যন্তরীণ যৌন পাচারের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারী সংস্থা রূপান্তরের ময়মনসিংহ জেলা সমন্বয়কারী জানান, মা-বাবার জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় সন্তানের জন্মনিবন্ধন করা কঠিন হয়ে পরে। অপ্রাপ্য অপসন সম্পর্কে প্রচারণা ও সহজ হলে ভূক্তভোগীরা উপকৃত হতে পারে।

