মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল প্রতিনিধি:
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইসলামী আন্দোলন নেতা হুমায়ুন কবিরের অপসারণ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ জনগন।
১১ মার্চ বুধবার সকাল ১১টায় নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেষপুর বাজারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন থেকে বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ গত ৯ মার্চ সরকারি উদ্যোগে দুস্থ মহিলাদের খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রাম (ভি. ডব্লিউ. ভি) এর এক হাজার তিনশত কেজি চাল চুরির অভিযোগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরকে ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ করে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে সাধারণ জনগন।
এ ব্যাপারে ভি.ডব্লিউ. ভি প্রোগ্রামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামিম পারভেজ বলেন, নিয়ামতি ইউনিয়নে দুস্থ মহিলাদের সহায়তা প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত ২৬৬ টি কার্ড রয়েছে। প্রতি মাসে তারা জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল পায়। চলতি মাস ও আগের ২ মাস বকেয়া সহ মোট ৩ মাসের মোট ২৩ হাজার ৯৪০ কেজি চাল কলসকাঠি খাদ্য গুদাম থেকে আনার কথা। কিন্তু গুদাম থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল কম আনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের সাথে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন ট্রলারে জায়গা না থাকায় এক হাজার তিনশত কেজি চাল গোডাউনে রেখে আসা হয়েছে যা পরে আনা হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান হুমায়ুন ইতিপূর্বেও জেলেদের চাল চুরি, বিভিন্ন ভাতা থেকে টাকা আদায় সহ নানারকম দুর্নীতির করে পার পেয়ে গেছে। যা একাধিকবার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। এবারও সে (ভি.ডব্লিউ. ভি) প্রোগ্রামের ১ হাজার ৩০০ কেজি চাল চুরির চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেটা জানতে পেরে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চালের বস্তা গননা করে তেরশো কেজি চাল কম পায়।
বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হুমায়ুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে।
এব্যাপারে জানতে নিয়ামতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের সাথে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাক পাওয়া যায়নি।

