মাহফুজুল হক পিয়াস, ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচি পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মণ্ডলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এসময় তারা দাবি জানান, অতিদ্রুত সাজিদ আব্দুল্লাহর খুনিদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আগামীকাল বিকাল চারটার মধ্যে সব ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামানকে পদত্যাগ করতে হবে। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তাহলে প্রশাসন কর্তৃক তাকে অপসারণ করতে হবে, অন্যথায় বুধবার বেলা এগারোটা ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
এসময় বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি। তিনি বলেন, “১৭ জুলাই শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হলেও আজ পর্যন্ত হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়নি। প্রশাসন বারবার রিপোর্ট আসছে বলে আশ্বাস দিলেও আমরা জানি না রিপোর্টটি ভ্যানে, ট্রেনে, না ঠেলা গাড়িতে আসছে। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। যদি সাজিদের হত্যার বিচার না হয়, তাহলে ক্যাম্পাসের কোনো শিক্ষার্থীই নিরাপদ থাকবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি- অতি দ্রুত হত্যার রহস্য উন্মোচন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন হত্যাকাণ্ড না ঘটে।”
বক্তব্যে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “সাজিদ হত্যার পর সিআইডি ও বিভিন্ন তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রশাসনের গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টেও বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে, কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সব কার্যক্রম সচল থাকলেও সাজিদের হত্যার বিচার হচ্ছে না।
১৫ জুলাই আইসিটি সেল থেকে সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণ প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়েছিল কেন- এরও জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়ে যাওয়া, রুমের চাবি সাদ্দাম হোসেন হলের কোনো এক ছাত্রের কাছে থাকলে তা স্পষ্ট না করাসহ সাজিদের মৃত্যুর পর প্রশাসন শুধু তালবাহানা করে যাচ্ছে। এই নয়-ছয় প্রশাসন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আর চলতে দেওয়া হবে না।” কর্মসূচি পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন বলেন, সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বহুবার আন্দোলন করেছে। শুরুতে আল-কোরআন বিভাগকে আন্দোলনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তারা নীরব হয়ে যায়, যা দুঃখজনক।
বিভাগের চেয়ারম্যানের ‘আন্দোলন করা লাফালাফি’ মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে এমন অবজ্ঞা অমানবিক। ১২ তারিখের আগেই সাজিদ হত্যার বিচার সম্পন্ন করতে হবে, নইলে এই বিচার আর কখনো হবে না।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংলগ্ন পুকুর থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ আগস্ট ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায়, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সাজিদের হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

