প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে। ইরান এই প্রক্রিয়ায় কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি এবং কৌশলগতভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে ইরানকে দুর্বল ধরে নিয়ে কঠোর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি উল্টো দিকে মোড় নেয় এবং কিছু শর্তে সমঝোতার পথে যেতে হয়—এমন দাবিও উঠে এসেছে। হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনা এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সামরিক উপস্থিতি ও নৌবহর মোতায়েনের পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান প্রভাব বিস্তার করছে। কিছু বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, জাহাজ চলাচলে টোল ব্যবস্থার মতো অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।
সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি ও পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস এবং বাস্তব অবস্থার মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মূল্যায়নও ভিন্ন ভিন্ন।
এদিকে এই সংঘাতের প্রভাব শুধু ইরান বা ইসরায়েলে সীমাবদ্ধ নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। সিরিয়া, জর্ডান, মিশরসহ বিভিন্ন আরব দেশে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, আঞ্চলিক জনমত নতুন করে বিভাজিত হচ্ছে এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান কিছু দেশে শক্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কূটনৈতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি টেকসই করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব ও আলোচনা চললেও তা এখনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছায়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি নিরাপত্তা ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

