আর্জেন্টিনা: ধারাবাহিক সাফল্যের আরেক বছর
আন্তর্জাতিক ফুটবলের গত চার বছর নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার। কোপা আমেরিকা (২০২১), ফিনালিসিমা, বিশ্বকাপ (২০২২) ও সর্বশেষ কোপা আমেরিকা—প্রতিটি অর্জনেই তারা প্রমাণ করেছে নিজেদের আধিপত্য। মেসিকে ঘিরে নতুন প্রজন্মও শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
২০২৫ সালেও এই ধারাবাহিকতা অটুট রেখেছে স্কালোনির দল। বছরের মোট ৯ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৭টিতে, ড্র ১ ও হেরেছে মাত্র ১টি। এই সময়ে তারা গোল করেছে ১৯টি, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৩টি। ইকুয়েডরের কাছে বাছাইপর্বে একমাত্র হার, আর কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্রই ছিল একমাত্র ব্যর্থতা। মায়ামিতে পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে ৬–০ ব্যবধান ছিল বছরের সবচেয়ে বড় জয়।
তবে আলোচনার কেন্দ্র ছিল বুয়েনস এইরেসের ‘সুপার ক্ল্যাসিকো’, যেখানে মেসিকে ছাড়া খেলেও ব্রাজিলকে ৪–১ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এ ম্যাচ প্রমাণ করে, দলটি এখন আর শুধু মেসিনির্ভর নয়।
জুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, থিয়াগো আলমাদা, ম্যাক আলিস্টারদের পরিপক্বতা যেমন বেড়েছে, তেমনি নতুন প্রতিভা—ফ্রাঙ্কো মাস্তাতুয়োনো, নিকো পাজ, হোয়াকিন পেনিচেলিদের উত্থানও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপে এদের কেউ কেউ বড় ভরসা হয়ে উঠবেন—এমন আশা এখন অনেক।
ব্রাজিল: ব্যর্থতার ছায়া কাটিয়ে আশার সূচনা
ব্রাজিলের পথচলা আর্জেন্টিনার উল্টো। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা ও অস্থিরতার পর ২০২৫ সালেও শুরুটা হয় হতাশায়। তবে বছর শেষে আশা জাগিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির আগমন।
বছরে ব্রাজিল মোট ১০ ম্যাচে খেলেছে—জিতেছে ৫টিতে, ড্র ২টি, হার ৩টি। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে জয়ে বছর শুরু হলেও পরের ম্যাচেই আর্জেন্টিনার কাছে ৪–১ গোলের লজ্জাজনক হার কোচ দরিভাল জুনিয়রকে বিদায় করে দেয়।
নতুন কোচ আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রাজিলের খেলার ধরণ গোছানো, গতিময় ও ছন্দোময় হয়েছে। আনচেলত্তির অধীনে ৮ ম্যাচে জিতেছে ৪টিতে, ড্র ২ ও হার ২টি। তবে ধারাবাহিকতার অভাবই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নেইমারবিহীন বছর কাটলেও ব্রাজিল পেয়েছে এক বড় রত্ন—১৮ বছর বয়সী এস্তেভাও। চার ম্যাচে চার গোল করে তিনি ইতিমধ্যেই নতুন ভরসার নাম। ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো, রাফিনিয়ার সঙ্গে মিলে ব্রাজিল আক্রমণের নতুন রূপ পেয়েছে।
এছাড়া ব্রুনো গিমারেস, কাসেমিরো, অ্যালেক্স সান্দ্রোদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে শক্তি যোগাচ্ছে। সঠিক সময়ে সঠিক সমন্বয় গড়ে উঠলে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও বড় স্বপ্ন দেখতেই পারে।

