মোঃ হারুন উর রশিদ,স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
জমিতে থাকা কাঠাল ও সুপারির গাছের ডালপালা কাটাকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে সোকেসের কাপড়ের ভাঁজ থেকে নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আছমা বেগম (৩৮)।
ঘটনাটি বুধবার (২১/ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের কুকড়াডাঙ্গা এলাকায় ঘটেছে। এমন ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারী সদর থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন তিনি। যার মামলা নং- ০৬/৪৯,তাং- ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং। অভিযুক্তরা হলেন, কুকড়াডাঙ্গা গ্রামের প্রতিবেশী ফারজানা বেগম (২২), রুবিনা (১৮), উভয়ের পিতা- রবিউল ইসলাম, মিনা বেগম (৪০), স্বামী- রবিউল ইসলাম-পিতা- গলিয়া মামুদ সহ অজ্ঞাত আরও ৩ থেকে ৪ জন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, আছমার সাথে (৩৮) দীর্ঘ ৫ থেকে ৭ বছর ধরে জমি জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে অভিযুক্তদের সাথে। দীর্ঘ শত্রুতার জেরে তারা আছমার জমিতে থাকা কাঠাল ও সুপারির গাছের ডালপালা কাটতে শুরু করে।
বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র দা, বটি ও হাসুয়া নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে আছমা বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। অভিযুক্তরা ঘরে থাকা সোকেসের কাপড়ের ভাঁজে রাখা নগদ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা লুট করে এবং অভিযুক্ত ফারজানা বেগমের হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে আছমার মাথায় কোপ দিতে গেলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বিখণ্ডিত হয়। আছমার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে আছমার অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করান এলাকাবাসী। সেখানে চিকিৎসক বাম হাতে ১৩টি সেলাই দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ রেফার করেন।
পরবর্তীতে সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (২৫/ফেব্রুয়ারী) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সনেকা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আছমার বাড়িতে অনেক লোকজন দেখে আমিও যাই। গিয়ে দেখি গ্রাম ডাক্তার বলছেন অবস্থা গুরুতর মেডিকেলে ভর্তি হতে। আমিনা বলেন,ফারজানা বেগম তিনবার স্কুল ফেল করেছে। এখন বাড়িতে থাকে। আমরা শুনেছি ফারজানা কোপ দিয়েছে। এখন জামিনে আসার পর এদের হুমকি দিচ্ছে। দেশে আইন নাই, গরীবের বিচার হয়না। ভুক্তভোগী আছমা বলেন, জামিনে আসার পর তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি মেরে গুম করে মামলা শেষ করারও হুমকি দিচ্ছে তারা। এক নম্বর আসামি জামিন হয় নাই তাতে কি ভাবে মামলা শেষ হইছে।
আমি জানতে চাই যারা আমাকে হুমকি দিচ্ছে তাদের জামিন বাতিল চাই। এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান বলেন, এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

