সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত। নানা সময়ে এখানে মূল রাজনৈতিক স্রোতের বিপরীতে প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার নজির রয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এও এই আসন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ব্যাপক আগ্রহ।
এবার এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন:বিএনপির মো. শওকতুল ইসলাম (ধানের শীষ),জামায়াতে ইসলামীর ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী (দাঁড়িপাল্লা),জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা),বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি),এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নওয়াব আলী আব্বাছ খান (ফুটবল), এম. জিমিউর রহমান (ঘোড়া) ও মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ-পিরিচ)।
শুরু থেকেই হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ। তিনি সর্বশেষ কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং এর আগে টানা দু’বার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকে সমর্থন দিয়েছে ফুলতলী মসলকের অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ। ফলে দলীয় প্রার্থীরাও তাকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী,এ আসনে মূল লড়াই ত্রিমুখী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি- বিএনপির মো. শওকতুল ইসলাম,জামায়াতের মো. সায়েদ আলী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খান সাহেদের মধ্যে।
মৌলভীবাজারের আসনগুলো চা-বাগান অধ্যুষিত হওয়ায় নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব রাখেন চা-শ্রমিক ভোটাররা। জেলার ৯২টি চা-বাগানে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার শ্রমিক ভোটার রয়েছেন,যারা অতীতে সাধারণত আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এই ভোটাররাই জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের কোনো ভোটার নেই। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০৩টি।
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত ২৩৬ নম্বর এই সংসদীয় আসনটি ঘিরে ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত চা-শ্রমিক ভোট,স্থানীয় প্রভাব এবং ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ-সব মিলিয়ে কুলাউড়ার লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়,সেটিই এখন দেখার বিষয়।

