ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে হামাস। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি, ২০২৬) এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজেম কাসেম জানিয়েছেন: শাসনভার হস্তান্তর: হামাস গাজার বিভিন্ন খাতের প্রশাসনিক দায়িত্ব তদারকি করার জন্য একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি: এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করতে হামাস পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং কমিটির কাজে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: হামাস স্পষ্ট করেছে যে, তারা ভবিষ্যতের কোনো প্রশাসনিক বা সরকারি কাঠামোর অংশ হতে চায় না।
এই প্রশাসনিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনাটি মূলত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত জরুরি আরব শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রস্তাবিত কমিটির বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
কমিটিটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং বিশেষজ্ঞ (Technocrats) ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হবে। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য এই কমিটি গাজা পরিচালনা করবে। এই স্বাধীন সংস্থাটি ফিলিস্তিন জাতীয় সরকারের অধীনে থেকে কাজ করবে এবং গাজার পুনর্গঠন ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করবে।
হামাসের এই সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকরা একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ছাড় হিসেবে দেখছেন। গাজার ওপর ইসরায়েলি অবরোধ, যুদ্ধ পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে কায়রোতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো গাজার শাসনভার বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ধরনের প্রস্তাবকে প্রায়ই হামাসের ‘প্রচার কৌশল’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ইসরায়েলের দাবি, গাজায় যেকোনো নতুন বেসামরিক সরকার গঠন হতে হবে হামাসমুক্ত এবং নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
সারসংক্ষেপ: হামাস নিজেদের শাসনব্যবস্থা থেকে দূরে রেখে গাজাকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে চাইছে, যাতে গাজার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বেগবান করা যায়।

