রাজধানীর স্থবির ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আজ দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সভায় রাজধানী ঢাকাকে যানজটমুক্ত এবং আধুনিক করার লক্ষ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী একগুচ্ছ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী এপ্রিলের শেষ নাগাদ শহরের যানজট পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।
বৈঠকে গৃহীত প্রধান সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে ঢাকার ১২০টি পয়েন্টে দেশীয় প্রযুক্তিতে অটোমেশন ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা। এছাড়া মহানগরের ভেতর থেকে ৫টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে, যা পরবর্তীতে শুধুমাত্র ‘সিটি সার্ভিস’ বাসের জন্য ব্যবহৃত হবে। যানজট এড়াতে শহরের চারপাশে নতুন বাইপাস সড়ক এবং ভেতরে প্রয়োজনীয় স্থানে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাস্তার দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং রাস্তার মাঝখানে থাকা বিপজ্জনক বিদ্যুতের খুঁটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেল ক্রসিংগুলোতে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি অটো সিগন্যাল লাইটিং সিস্টেম যুক্ত করা হবে এবং সকল সিটি বাসকে জিপিএস (GPS) সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। পথচারীদের সুবিধার্থে অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি এবং হাসপাতাল এলাকার ব্রিজগুলোতে দেশীয় প্রযুক্তির লিফট স্থাপন করা হবে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বড় একটি অংশ আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এই কার্যক্রম সফল করতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং শ্রমিক নেতা শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপিসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রাজউক চেয়ারম্যান, বিআরটিসি চেয়ারম্যান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির উপস্থিত ছিলেন।

