মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ভূত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পৃথক দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে ২ কার্গো এলএনজি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রয়ের আওতায় DPM (Direct Procurement Method) পদ্ধতিতে কাজাখস্তানের ‘কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন (৫০ পিপিএম সালফার) ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। প্রতি ব্যারেল $৭৫.০৬ দরে এই ডিজেল আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৬৮৯.২৯ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান জানিয়েছেন, কাজাখস্তান, দুবাই ও ওমান থেকে আরও ১৫ লাখ টন ডিজেল এবং ১ লাখ টন পেট্রোল আমদানির দুটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিলেও, ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি তা আপাতত চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। এর মধ্যে দুবাই থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন পেট্রোল এবং ওমান ও কাজাখস্তান থেকে অবশিষ্ট ডিজেল আমদানির প্রস্তাব ছিল।
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের ২০% তেল এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিপূর্বে জ্বালানি ও গ্যাস নিয়ে আরও ৪টি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

