মৃত্যু জীবনের অপ্রিয় কিন্তু অবশ্যম্ভাবী সত্য। প্রতিটি মানুষ এই দুনিয়ার সফরের শেষ গন্তব্য হিসেবে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, “প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।” (সুরা আলে ইমরান: ১৮৫)
মুসলিম সমাজে জানাজার নামাজ ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ, কোনো মুসলমানের মৃত্যু হলে মহল্লার কিছু মানুষ জানাজার নামাজ আদায় করলে বাকিরা দায়িত্বমুক্ত হয়। এছাড়া একজন মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানদের পাঁচটি অধিকার রয়েছে। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তির জানাজায় অংশ নেওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “এক মুসলমানের অধিকার অন্য মুসলমানের ওপর পাঁচটি: সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাজার সঙ্গে যাওয়া, দাওয়াত গ্রহণ করা এবং হাঁচি দিলে তার জবাব দেওয়া।” (রিয়াদুস সলেহিন: ৯০০)
জানাজা ও দাফনের কাজটি সমাজের মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে অত্যন্ত অধিক পরিমাণে সওয়াব রয়েছে, যদিও সবার অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে এই মহৎ সওয়াবের কাজ থেকে পিছিয়ে থাকা কখনোই সমীচীন নয়।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি বিশ্বাস রেখে এবং নেকির আশা রেখে কোনো মুসলমানের জানাজার সঙ্গে যাবে, নামাজ আদায় করবে এবং দাফনের সময় পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকবে, সে দুই কিরাত সওয়াব অর্জন করবে। এক কিরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি জানাজার নামাজ আদায় করে কিন্তু দাফনের আগে চলে আসে, সে এক কিরাত সওয়াব নিয়ে বাড়ি ফিরবে।” (রিয়াদুস সলেহিন: ৯৩৫)

