বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৯ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছানোর মাধ্যমে এই নতুন উচ্চতা স্পর্শ করে।
মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যান: বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মার্কেটেও ২ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পর লেনদেন ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
কেন এই উল্লম্ফন? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তিনটি কারণে স্বর্ণের বাজারে এই ঐতিহাসিক তেজ দেখা দিয়েছে: ১. দুর্বল ডলার: মার্কিন ডলারের বিনিময় হার গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা। ২. ট্রাম্পের প্রভাব: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডলারের মূল্যকে ‘অনেক বেশি’ বলা এবং ফেডারেল রিজার্ভে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেছেন। ৩. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: বৈশ্বিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ (Safe Haven) হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস: বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওংয়ের মতে, অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৪০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছানোর শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য ধাতুর বাজার: স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৩ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
দেশের বাজারে প্রভাব: আন্তর্জাতিক বাজারের এই জয়যাত্রার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডলারের দুর্বলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বজায় থাকলে স্বর্ণ ও রুপার এই চড়া দাম আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

